Ad space

স্বর্নের এই কলসটি আমার অভিনয় জীবনের সেরা অর্জন

প্রকাশ:
6
Image

শিল্পীরা সম্মান চান। দর্শকের ভালোবাসা, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা আর কাজের স্বীকৃতিই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই সম্মান যখন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে কৃতজ্ঞতার মোড়কে, তখন তার মূল্য কোনো বস্তুগত পরিমাপে মাপা যায় না। সম্প্রতি ঠিক তেমনই এক বিরল সম্মানের সাক্ষী হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, ‘ঢালিউড কুইন’ অপু বিশ্বাস। তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি স্বর্ণের কলস। ব্যতিক্রমী এই উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন তিনি, হয়েছেন বিস্মিতও।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অভিনয় জীবনে অপু বিশ্বাস অর্জন করেছেন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। উপহার পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা ও দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা। কিন্তু সম্প্রতি পাওয়া একটি বিশেষ উপহার তার কাছে অন্য সব অর্জনের চেয়ে ‘বিশেষ’ করে তুলেছে। ২ জুন চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আয়োজনে হাতে পাওয়া সেই স্বর্ণের কলসকে তিনি নিজের শিল্পীজীবনের সবচেয়ে আবেগঘন, সবচেয়ে স্মরণীয় এবং সবচেয়ে মূল্যবান প্রাপ্তিগুলোর একটি বলে মনে করছেন।

এই গল্পের শুরু প্রায় দুই মাস মাস আগে। গত ৭ এপ্রিল বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মমইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের বর্ণাঢ্য আয়োজন। সারা দেশের তারকাদের মিলনমেলায় মুখরিত সেই অনুষ্ঠানে ছিল অপু বিশ্বাসের একটি বিশেষ পরিবেশনা। লোককথার কিংবদন্তি চরিত্র বেহুলার আদলে সাজিয়ে তোলা সেই পারফরম্যান্স মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তার সেই পরিবেশনার ভিডিও ও ছবি।

তবে সেই আলোচিত অনুষ্ঠানের আগের রাতেই ঘটে যায় একটি ছোট্ট ঘটনা, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় বড় এক চমকে। রিহার্সালের ফাঁকে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল অপু বিশ্বাসের। অপু বিশ্বাস নাচের প্রাকটিস করছিলেন। হঠাৎ মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসনে ফরিদুর রেজা সাগর। তিনি কৌতুক মিশ্রিত কণ্ঠে অপুকে বলেন, দেশের শীর্ষ চিত্রনায়িকার কাছে কি পিতলের কলস মানায়? অপু বিশ্বাস তখন মৃদু হেসে বলেন, আপাতত পিতল ছাড়া আর কি করার আছে? ফরিদুর রেজা সাগর তখন মৃদু হেসে বলেন, দেখা যাক কি করা যায়? অপু নিজেও ভাবেননি, সেই মজার আলাপচারিতাই এত গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখবেন ফরিদুর রেজা সাগর।

সময়ের ব্যবধানে সেই কথাই বাস্তবে রূপ নেয়। ২ জুন হঠাৎ করেই চ্যানেল আই থেকে একটি ফোন পান অপু বিশ্বাস। তাকে দ্রুত চ্যানেল আইতে আসতে বলা হয়। কিন্তু কেন ডাকা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও বিশেষ কিছু অনুমান করতে পারেননি তিনি। বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে চ্যানেল আই ভবনে পৌঁছানোর পরই তার মনে হতে থাকে, ভিন্ন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। চারপাশের পরিবেশ, সবার ব্যস্ততা, হাসিমুখ-সব মিলিয়ে যেন ছিল অন্যরকম এক আবহ। এরপর শুরু হয় চমকের পর্দা উন্মোচন।

লাল গালিচার সঙ্গে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদুর রেজা সাগর নিজ হাতে অপু বিশ্বাসের হাতে তুলে দেন একটি স্বর্ণের কলস। মুহূর্তটি অপুর জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন, বহু মঞ্চে সম্মানিত হয়েছেন; কিন্তু এভাবে কেউ তাকে সারপ্রাইজ দিতে পারেননি-এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সেই মুহূর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করাও যেন কঠিন ছিল তার জন্য। কিছু সময়ের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন অপু। আনন্দে তার চোখ ভিজে যায়। আবেগ আর বিস্ময়ের মিশেলে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য অনুভূতি। চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে উপস্থিত অনেকেই তখন প্রত্যক্ষ করেছেন একজন সফল অভিনেত্রীর হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।

পরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, শিল্পীজীবনে কখনও অর্থ বা বিত্তের পেছনে ছোটেননি তিনি। বরং মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর সম্মানই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পরিবার, দেশের মানুষ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে অপু বলেন, যখন তিনি ফরিদুর রেজা সাগরের হাতে স্বর্ণের কলসটি দেখেন এবং জানতে পারেন সেটি তার জন্য, তখন কিছুক্ষণের জন্য তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি ঘটনাটি সত্যি। নিজের আবেগ লুকানোর চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ এটি ছিল শুধু একটি উপহার নয়, বরং একজন শিল্পীর প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ।

Image

চ্যানেল আই এবং ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, চ্যানেল আই শুধু একটি টেলিভিশন চ্যানেল নয়, এটি শিল্পীদের আপন ঠিকানা। দেশের সংস্কৃতি, শিল্প ও বিনোদন অঙ্গনের মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সবসময় একটি নির্ভরতার জায়গা হয়ে আছে। আর সাগর ভাই শিল্পীদের কাছে শুধু একজন কর্পোরেট প্রধান নন; তিনি একজন অভিভাবক, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অনুপ্রেরণার উৎস।

অপু বিশ্বাসের ভাষায়, এই স্বর্ণের কলসের মূল্য কেবল সোনার ওজনে নির্ধারণ করা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মমতা, একজন অভিভাবকের আশীর্বাদ এবং একজন শিল্পীর দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি। তাই এটি তার কাছে শুধু একটি উপহার নয়, বরং জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন।

সবচেয়ে আবেগঘন মন্তব্যটি করেন এই উপহার পাওয়ার পর। অপু বিশ্বাস বলেন, “জীবনে যদি আর কখনও কাজও না করি, তবুও আমার কোনো আফসোস থাকবে না।” একজন শিল্পীর মুখে এমন কথা নিঃসন্দেহে তার প্রাপ্ত সম্মানের গভীরতাকেই প্রকাশ করে। কারণ একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার কোনো ট্রফি বা অর্থমূল্য নয়; বরং মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এবং সম্মানিত হওয়া।

সত্যিই, শিল্পীরা সম্মান চান। আর সেই সম্মান যখন আন্তরিকতার সঙ্গে দেওয়া হয়, তখন তা হয়ে ওঠে আজীবনের স্মৃতি। অপু বিশ্বাসের হাতে স্বর্ণের কলস তুলে দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি উপহার দেওয়ার গল্প নয়; এটি একজন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সম্মান জানানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিনোদন অঙ্গনে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। তাই এই স্বর্ণের কলস শুধু একটি মূল্যবান উপহার নয়, এটি হয়ে থাকবে একজন শিল্পীর প্রতি ভালোবাসার স্বর্ণালি প্রতীক।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...