Ad space

তারকা বোনদের গল্প

প্রকাশ:
9

রুনা লায়লা ও দিনা লায়লা

উপমহাদেশের কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লার বড় বোন দিনা লায়লা। তাদের বাবা গান শেখাতে ওস্তাদ রাখেন দিনা লায়লার জন্য। রুনা লায়লার জন্য নয়। কিন্তু একসময় দিনার ওস্তাদের নজর কাড়েন রুনা। বোনের পাশে বসে রুনা দিনের পর দিন গানের রেওয়াজ করে গেছেন নিজের মতো করে। শেখাতে বাড়িতে আসতেন ওস্তাদজী। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে বসানো যেতো না তালিমে। অথচ এক সময় তিনি হয়ে গেলেন বিশ্ববিখ্যাত গায়িকা।

দিনাকে তালিম দিতে বাড়িতে আসতেন ওস্তাদ আব্দুল কাদের পিয়ারে ও ওস্তাদ হাবিব উদ্দিন। তখন রুনা লায়লার বয়স চার বছর। সারা বাড়ি নেচে বেড়াতেন। ওস্তাদজির কাছে গান শেখানোর জন্য কখনো রুনা লায়লাকে বসানো যায়নি। তবে না বসলেও দিনা লায়লা যখন গান শিখত, তখন ক্লাসিক্যাল বা সরগমগুলো শুনে শুনে তার মাথায় ঢুকে যেতো। পরে সেগুলো নিজে নিজে গাইতেন।

একবার একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার কথা ছিল দিনা লায়লার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তার গাওয়া হয়নি। তখন তার মা বললেন, “রুনাকে দিয়ে গাওয়ান।” আয়োজকরা বললেন, “কী যে বলেন, মাত্র ছয় বছর বয়সের মেয়ে, কী গাইবে!” মা আমেনা বললেন, “না, সমস্যা হবে না। ও ওর বোনের সঙ্গে বসে বসে এগুলো ভালোই শিখেছে। ও পারবে।” অনিচ্ছা সত্ত্বেও আয়োজকরা রাজি হন।

Image

ছোট বোন রুনা লায়লা বড় বোনের সম্মান রাখতে সেই অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শ্রোতা- দর্শক মাত করেন। ১৯৬৪ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে লাহোরে ‘জুগনু’ সিনেমাতে ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’ গানের মাধ্যমে প্লেব্যাক জগতে পা রাখেন রুনা লায়লা। এই সিনেমায় রুনা লায়লার বড় বোন দিনা লায়লাও প্লে-ব্যাক করেছিলেন। পরে ওই ছবিতেই আরও একটি গান গাওয়ার প্রস্তাব এলো, তবে সেটা ছিল নায়িকার কন্ঠে। ১৯৬৮ সালে সিনেমাটি মুক্তি পায়।

দিনা লায়লা ছিলেন পাকিস্তানি প্লেব্যাক শিল্পী। তিনি শৈশব থেকে সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। সাড়ে চার বছর বয়সে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। তাঁর দেখাদেখিতেই ছোট বোন সংগীতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

সাবিনা ইয়াসমিন ও নিলুফার ইয়াসমিন

নজরুল সঙ্গীত ও আধুনিক গানের অসাধারণ কন্ঠশিল্পী ছিলেন নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি ছিলেন কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের বড় বোন। পরিবারের পাঁচ বোনের মধ্যে চতুর্থ। অন্য বোনেরা হলেন-বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন, মেজো বোন ফওজিয়া খান, সেজো বোন নাজমা ইয়াসমিন হক ও সবার ছোট বোন সাবিনা ইয়াসমিন। মায়ের কাছে সংগীতে হাতেখড়ি নিলুফার ইয়াসমিনের। পারিবারিকভাবেই সাংস্কৃতিক আবহে তিনি বেড়ে ওঠেন। সংগীতের প্রতি তার অনুরাগ ছিল প্রবল। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বাবা গান পরিবেশন করতেন আর মা হারমোনিয়াম বাজাতেন। তাদের মা মুর্শিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ কাদের বখশের ছাত্রী ছিলেন।

নিলুফার ইয়াসমিন বাংলাদেশ বেতারের ছোটদের অনুষ্ঠান খেলাঘরের মাধ্যমে শিল্পীজীবনের শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হন। উভয় প্রতিষ্ঠানেই তিনি আমৃত্যু একজন নিয়মিত শিল্পী হিসাবে গান গেয়েছেন। রাগসংগীত এবং নজরুল সংগীতের বাইরে তিনি গেয়েছেন অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন, রাগপ্রধান, আধুনিক গান।

১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। একমাত্র পুত্র আগুন বর্তমান প্রজন্মের একজন প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠশিল্পী। তাঁর কণ্ঠে নজরুল সংগীত, কীর্তন ও পুরোনো দিনের গানের বেশ কয়েকটি অডিও ক্যাসেট ও সিডি বের হয়েছিল। তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। এর ভেতরে উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো ছিল-শুভদা, অরুণ-বরুণ-কিরণমালা, জোয়ার ভাটা, আবার তোরা মানুষ হ, সুজন সখী, যে আগুনে পুড়ি, জীবন-তৃষ্ণা, জলছবি ইত্যাদি।

গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলাদেশের গানের জগতের অনন্য নাম। আধুনিক গান বিশেষ করে সিনেমার গানের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা মুশকিল। ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী এই শিল্পী। তাঁর প্রায় সব গানই শ্রোতা প্রিয়। কোকিল কণ্ঠি গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিনরা পাঁচ বোন। সাবিনা সব থেকে ছোট। বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন, তারপর ফওজিয়া ইয়াসমনি, তারপর নাজমা ইয়াসমিন, তারপর নীলুফার ইয়াসমিন। পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমা ছাড়া আর সবাই গানের জগতের মানুষ। নাজমা ভালো নাচতে পারতো।

১৯৬৭ সালের কথা। সাবিনা ইয়াসমিনের বয়স তখন মাত্র তের বছর। ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমার জন্য বয়সে বড় শিল্পীদের সঙ্গে গানে কণ্ঠ দেন সাবিনা। ছোট বয়স বলে তাকে ছোটদের গানের জন্যই ডাকা হতো। কিন্তু তাঁর মন চাইতো বড়দের মতো করে সিনেমার গানে কণ্ঠ দেবার। সাবিনার মাও চাইতেন মেয়ে সিনেমার জন্য গান করুক। কিন্তু সুযোগ মিলছিল না। বরেন্য সঙ্গীতজ্ঞ আলতাফ মাহমুদ সাবিনাদের বাসার পাশে একটি বাসায় এসে উঠলেন। তখনকার দিনে সিনেমার গান মানেই আলতাফ মাহমুদের সুর। মেয়ের গানের জন্য আলতাফ মাহমুদকে ধরলেন সাবিনার মা। সাবিনার কম বয়স দেখে আলতাফ মাহমুদ কোনো মতেই তাকে দিয়ে সিনেমার গানে যুক্ত করতে রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু মায়ের মনে অনেক আশা।

Image

আলতাফ মাহমুদকে অনুরোধ করে বললেন, আমার মেয়েকে একটা সুযোগ দেন। শেষমেষ আলতাফ মাহমুদ অনেকটা বিরক্ত হয়েই ছোট্ট সাবিনাকে দিয়ে সিনেমার গান গাওয়াতে রাজি হলেন। তবে শর্ত দিলেন গান ভালো না হলে সিনেমায় ওই গান যুক্ত হবে না। সাবিনার মা তাতেই খুশি। কারণ মেয়ের প্রতি তার অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। একবার সুযোগ পেলেই সাবিনা মাত করে দিবে। হ্যা, আগুন নিয়ে খেলা সিনেমার জন্য গান গেয়ে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান সাবিনা ইয়াসমিন। কিন্তু সাবিনার প্রথম গানের পর আলতাফ মাহমুদ ভালো মন্দ কিছুই বলেননি তিনি। মাস খানেক পরে সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে আরও একটি গান গাওয়ালেন আলতাফ মাহমুদ। এই গানে সাবিনার সহ শিল্পী ছিলেন তখনকার সময়ে অন্যতম ব্যস্ততম গায়ক মাহমুদুন্নবী। দুটি গানই আগুন নিয়ে খেলা সিনেমায় যুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে সাবিনা ইয়াসমিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান থেকে শুরু করে উচ্চাঙ্গ, ধ্রুপদী, লোকসঙ্গীত ও আধুনিক বাংলা গানসহ বিভিন্ন ধারার নানান আঙ্গিকের সুরে গান গেয়ে নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সুচন্দা, ববিতা, ও চম্পা

সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এমন কোনো উদাহরণ কী আছে একই মা-বাবার তিন সন্তান তিন প্রজন্মের সেলিব্রেটির মর্যাদা পেয়েছেন এবং দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাঁরা এখনো মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন নজির আছে কি-না আমাদের জানা নেই। তবে বাংলাদেশে আছে একই মা-বাবার তিন কীর্তিমান সন্তান। তিন প্রজন্মের প্রবল জনপ্রিয় সেলিব্রেটি বড় বোন কোহিনূর আখতার সুচন্দা, মেজো ফরিদা আখতার ববিতা ও ছোট বোন গুলশান আরা আখতার চম্পা।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি তিন নায়িকা, তিন বোন। ঢালিউডের “তিন কন্যা” হিসেবে পরিচিত। তাদের বাবা চেয়েছিলেন তিন বোন একসঙ্গে সিনেমায় কাজ করুক। শিবলী সাদিক পরিচালিত “তিন কন্যা” সিনেমায় তিন বোন একসঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন। সুচন্দা তার দুই বোনকে চলচ্চিত্রে আনেন। এক সময়ের সাড়া জাগানো ছিলেন এই তিন চিত্রনায়িকা। তাদের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। তাঁরা কেবল আপন তিন বোনই নন , বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ষাট দশকে এ ভূখ-ে চলচ্চিত্রের সোনালি এক অধ্যায় ছিল। ওই সময় অসাধারণ সুন্দরী সুচন্দার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সুভাষ দত্ত পরিচালিত “কাগজে নৌকা” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬৭ সালে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র ‘বেহুলা’তে অভিনয় করেন। ছবিতে তিনি রাজ্জাকের বিপরীতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে ‘জীবন থেকে নিয়ে’।

সত্তর দশকে তিনি হয়ে ওঠেন প্রবল জনপ্রিয় এক নায়িকা। তাঁর আধুনিকতা , অভিনয় দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ে। অস্কার পুরস্কারপাপ্ত গুণী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘ অশনি সংকেত ‘ ছবিতে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে এ উপমহাদেশের খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা এখন আর অভিনয়ে নিয়মিত নন। ১০ বছর আগে তাঁর অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ মুক্তি পায়। এরপর কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও গল্প, পরিচালককে পছন্দ হয়নি তাঁর। বাবা-মা চেয়েছিলেন, তাঁদের মেয়ে যেন বড় হয়ে ডাক্তার হন। বড় বোন সুচন্দার অনুপ্রেরণায় চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘সংসার’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়েছিল। ছবিতে ববিতা অভিনয় করেন রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনিসংকেত’ ছবিতে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন ববিতা। চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে গ্রামীণ, শহুরে কিংবা সামাজিক অ্যাকশন—সব ধরনের ছবিতেই এই নায়িকা ছিলেন সাবলীল। সত্তর ও আশির দশকে তরুণ-তরুণী সবার কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় নায়িকা। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা আড়াইশর বেশি। এর মধ্যে ‘বাঁদী থেকে বেগম’ (১৯৭৫), ‘নয়নমণি’ (১৯৭৬), ‘বসুন্ধরা’ (১৯৭৭), ‘রামের সুমতি’ (১৯৮৫) ও ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (১৯৯৬) ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন ববিতা। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী এবার পেলেন একুশে পদক।

Image

ছোট বোন চম্পা বড় হতে হতে দেখেছেন তাঁর বড় দুই বোন সুচন্দা আর ববিতাকে রূপালী পর্দায় হাঁটতে। অভিনয়শিল্পটা তাঁর ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল। চম্পার শুরুটা হয়েছিল মডেলিং দিয়ে। তারপর অভিনয় করেন আবদুল্লাহ আল - মামুনের জনপ্রিয় ডুব সাঁতার - এ। তাঁর ভাগ্য খুলে যায়। আশির দশকে মডেলিং ও টিভি নাটকের দুর্দান্ত অভিনেত্রী ছিলেন চম্পা। পরে বড় দুই বোন সুচন্দা ও ববিতার অনুপ্রেরণায় ১৯৮৫ সালে শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ সিনেমায় একসঙ্গে তিন বোন অভিনয় করেন। সুচন্দা প্রযোজিত এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে প্রথম পা রাখেন চলচ্চিত্র জগতে। প্রথম সিনেমায় বাজিমাত করলেন চম্পা। তাঁর ভাগ্য খুলে যায়। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দাপটের সাথে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে গেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি গুলো হচ্ছে-সহযাত্রী, ভেজা চোখ, কাশেম মালার প্রেম, শঙ্খনীল কারাগার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চন্দ্রকথা। চম্পা শুধু গ্ল্যামার নির্ভর বাণিজ্যিক সিনেমার নায়িকা নন , তিনি বারবার জীবনঘনিষ্ঠ সিনেমাতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে গৌতম ঘোষের “পদ্মা নদীর মাঝি”, চাষী নজরুল ইসলামের “শাস্তি” ও মুরাদ পারভেজের “চন্দ্রগ্রহন” এই ছবি গুলোতে তাঁর অসাধারণ অভিনয় তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

সাবিলা নূর ও নাবিলা নূর

সাবিলা নূর ও নাবিলা নূর। দুই বোন। নাবিলা বড়। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় নগর-পরিকল্পনাবিদ। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গাইল শহরের ডিরেক্টর অব কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট হিসেবে কাজ করেন। আর সাবিলা এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। এরপর সাবিলা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বিভিন্ন নাটক ও টেলিফিল্ম। নাটকের পাশাপাশি তাকে দেখা গেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও। কাজ করেছেন সিনেমাতেও। সিনেমা করেই বাজিমাত করলেন সাবিলা। ছোটপর্দা দাপিয়ে বেড়ানোর পর ওটিটি মাধ্যমে নিজের সাফল্যের ছাপ রাখেন এ অভিনেত্রী। বিগত কয়েক বছর বাস্তবধর্মী নানা চরিত্রে নিজেকে ভেঙে ভক্ত থেকে শুরু করে নানা মহলে হয়েছেন প্রশংসিত। সেই সাফল্যের সিনেমার পর্দায়ও তাঁর জমকালো অভিষেক হয়। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমাতেই তিনি শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ‘তা-ব’ দিয়ে। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে বলে মনে করছেন এ অভিনেত্রী। তবে সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবারও ঈদে বড়পর্দায় আসছেন তিনি। ‘রকস্টার’ নামের সিনেমাটিতে তিনি আবারও রোমান্স করবেন শাকিব খানের সঙ্গে। সিনেমা ক্যারিয়ারের শুরুতেই পরপর দুই ঈদে সিনেমা মুক্তি এবং শাকিবের সঙ্গে। নতুন যুক্ত হয়েছে, আগের দুই সিনেমার চেয়ে আলাদা। সাবিলা আসছে সেরা নায়কের সঙ্গে। এই অভিনেত্রীর পথচলা দীর্ঘ করার পথ প্রসারিত করে দেবে রকস্টার সিনেমাটি।

ছোট বোনের পথে হাঁটলেন বড় বোন। ‘মুখোমুখি অন্ধকার’ নামে এক ঘণ্টার একটি নাটকে সাবিলা-নাবিলা দুই বোন একসঙ্গে অভিনয় করেন। বাস্তবের মতো গল্পেও তাঁদের বড় বোন-ছোট বোন চরিত্রেই অভিনয় করতে দেখা যায়।

Image

নাটকটির গল্পও লিখেন সাবিলা নূর নিজেই। ‘পারাপার’ ও ‘হৃদিতা’ নামে এর আগে আরও দুটি নাটকের গল্প লিখেছিলেন সাবিলা। ‘মুখোমুখি অন্ধকার’ ছিল তাঁর তৃতীয় গল্প। নাবিলা ভালো গান করেন। মঞ্চনাটকের সঙ্গেও সে জড়িত।

ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় ‘বেলি’সহ তিন-চারটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। বড় হয়ে আর টেলিভিশনে কাজ করা হয়নি। তবে দেশের বাইরে মঞ্চনাটকের সঙ্গে জড়িত নাবিলা। ভালো গানও করেন।

রিয়েল লাইফে দুই বোন নাটকের দুই বোনের চরিত্র ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন। ‘অন স্ক্রিন, অফ স্ক্রিন-দুই বোন একসঙ্গে কাজ করতে পারাটা তাদের জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। নাবিলা দেশের বাইরে থাকার কারণে নিয়মিত অভিনয় করা হবে না তাঁর। দেশে আবার আসলে, সুযোগ হলে কাজ করবেন তিনি। নাবিলা একজন থিয়েটারটা কর্মী।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...