
২৭ বছর পরও শীর্ষে শাকিব খান
ঢাকাই চলচ্চিত্রে যুগে যুগে নায়ক এসেছেন, গেছেন। কেউ কয়েক বছর আলো ছড়িয়েছেন, কেউ এক যুগ রাজত্ব করেছেন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু একটা নাম দুই যুগের বেশি সময় ধরে বারবার ফিরে এসেছে দর্শকের মুখে

চন্দ্রমুখী না পার্বতী? কে দেবদাসকে বেশি ভালোবাসে? কিংবা দেবদাসই বা কাকে বেশি ভালোবেসেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়তো শত বছর পরও বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছে ‘দেবদাস’। প্রেম, অভিমান, সামাজিক বন্ধন আর আত্মবিধ্বংসী এক পুরুষের ট্র্যাজেডি-সব মিলিয়ে ‘দেবদাস’ হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রেমের এক অমর আখ্যান।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে উপন্যাসটি লেখেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্যমানের বিচারে তাঁর ‘শ্রীকান্ত’ কিংবা ‘গৃহদাহ’ হয়তো বেশি সমৃদ্ধ; তবু ভালোবাসার করুণ, সরল ও আবেগঘন উপস্থাপনায় ‘দেবদাস’-এর আবেদন অনন্য। আর সে কারণেই রূপালি পর্দায় বারবার ফিরে এসেছে দেবদাস-পার্বতী-চন্দ্রমুখীর গল্প।
দেশে-বিদেশে নানা ভাষায় নির্মিত হয়েছে ‘দেবদাস’ অবলম্বনে অসংখ্য চলচ্চিত্র। কোনটি সেরা, সেই প্রশ্ন কালে কালে আড্ডা ও আলোচনায় বহুবার এসেছে। তবে একটিকে অন্যটির চেয়ে এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখা কঠিন। সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিটি চলচ্চিত্রই দর্শকের কাছে দেবদাসকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে এবং তাকে করেছে সমকালীন ও প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশে প্রথম ‘দেবদাস’ নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম, ১৯৮২ সালে। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ। পার্বতীর চরিত্রে ছিলেন কবরী সারোয়ার এবং চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় আনোয়ারা। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের অন্যতম বিশ্বস্ত চিত্রায়ণ হিসেবে বিবেচিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে।
এর তিন দশক পর, ২০১৩ সালে, চাষী নজরুল ইসলাম আবারও নতুনভাবে নির্মাণ করেন ‘দেবদাস’। এতে অভিনয় করেন শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও মৌসুমী। নাম ভূমিকায় ছিলেন শাকিব খান। শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এটি ছিল ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।
বাংলা সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। ‘দেবদাস’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, সাহিত্যভিত্তিক গল্পও যতœশীল উপস্থাপনায় দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
ছবিতে ‘দেবদাস’ চরিত্রে শাকিব খানের উপস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অ্যাকশন ও রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করা এই সুপারস্টার প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ট্র্যাজিক নায়কের ভূমিকায় নিজেকে উপস্থাপন করেন। দেবদাসের প্রেম, হতাশা, আত্মবিনাশ এবং মানসিক যন্ত্রণার বিভিন্ন স্তর ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অনেক দর্শক ও সমালোচকের মতে, এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা।

চলচ্চিত্রে পার্বতী বা পারোর চরিত্রে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস এবং চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় ছিলেন মৌসুমী। দুই নায়িকার উপস্থিতি ছবির আবেগঘন পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে। বিশেষ করে দেবদাস-পর্বতীর অপূর্ণ প্রেম এবং চন্দ্রমুখীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা গল্পের মূল আবেগকে পর্দায় তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘দেবদাস’ মুক্তির সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। একদিকে ছিল শরৎচন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাস, অন্যদিকে জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানের ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য না পেলেও সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে শাকিব খানের অভিনয় নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নানা ধরনের মূল্যায়ন দেখা যায়।

মুক্তির প্রায় ১৩ বছর পর সম্প্রতি ‘দেবদাস’ প্রসঙ্গে শাকিব খান ‘আনন্দ আলো’কে বলেন, “এখন এসে মনে হয়, সুযোগ পেলে আমি আবারও ‘দেবদাস’ করতে চাই। যখন এই ছবিটি করেছিলাম, তখন একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করতাম। এখন যখনই ‘দেবদাস’-এর কথা মনে হয়, তখন বারবার মনে হয়, সুযোগ পেলে আরেকবার দেবদাস করব। তখন সময় ও যতœ নিয়ে শতভাগ শ্রম দিতে পারব। আমার মনে হয়, ‘দেবদাস’ এমন একটি চরিত্র, যা করে কোনো শিল্পীরই মন ভরে না।
‘দেবদাস’ যখন করেছিলাম, তখন বছরে ১০ থেকে ১৫টি সিনেমায় অভিনয় করতাম। কিন্তু এখন বছরে দুই-তিনটি কাজ করি। তাই ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও বেশি যতœশীল হয়ে, আরও প্রস্তুতি নিয়ে চরিত্রটি নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই।”

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সাহিত্যনির্ভর কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সেই বিবেচনায় ‘দেবদাস’ একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; বরং সামাজিক প্রথা, শ্রেণিবৈষম্য, অপূর্ণ ভালোবাসা এবং আত্মধ্বংসের এক করুণ উপাখ্যান। আর সেই উপাখ্যানের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে শাকিব খান তাঁর অভিনয়জীবনের একটি ভিন্ন অধ্যায় রচনা করেছিলেন।

মুক্তির এক যুগেরও বেশি সময় পরও ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রটি স্মরণ করা হয় মূলত এর সাহিত্যিক ভিত্তি

চাষী নজরুল ইসলামের নির্মাণশৈলী এবং শাকিব খানের ব্যতিক্রমী অভিনয় প্রচেষ্টার জন্য। বাংলা সাহিত্যের

অমর এই চরিত্রকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রটির অবদান নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...

ঢাকাই চলচ্চিত্রে যুগে যুগে নায়ক এসেছেন, গেছেন। কেউ কয়েক বছর আলো ছড়িয়েছেন, কেউ এক যুগ রাজত্ব করেছেন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু একটা নাম দুই যুগের বেশি সময় ধরে বারবার ফিরে এসেছে দর্শকের মুখে

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি নন্দিত লেখক, পরিচালক হুমায়ূন আহমেদের কর্মময় জীবন নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হুমায়ূনের সিনেমার প্রদর্শনীর পাশাপাশি

বাংলাদেশে ফুটবলকে বিষয় করে মাত্র দুটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা কাহিনী অবলম্বনে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘দামাল’ ব্যাপক আলোচিত সিনেমা। ইমপ্রেস প্রযোজিত এই সিনেমাটি শুধু ফুটবল নয় ফুটবলকে

শিল্পী মানেই ভালোবাসা আর সম্মানের কাঙাল। জীবনে কখনোই অর্থ-বিত্তের হিসাব করিনি, চেয়েছি শুধু মানুষের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই আমাকে আজকের আমি বানিয়েছে। পরিবার, দেশের মানুষ, দেশের বাইরে ছড়িয়ে

শিল্পীরা সম্মান চান। দর্শকের ভালোবাসা, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা আর কাজের স্বীকৃতিই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই সম্মান যখন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে কৃতজ্ঞতার মোড়কে,

আমাদের সিনেমা, সঙ্গীত ও নাটকের অঙ্গনে এক ঝাঁক মহিলা তারকা আছেন যারা আপন সহোদর অর্থাৎ আপন বোন। তেমনি শোবিজের জনপ্রিয় ছোট- বড় আদরের বোনদের নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন ‘তারকা বোনদের গল্প

গত মাস থেকেই আলোচনায় রকস্টার। শুরুতেই প্রকাশ পায় সিনেমার লুক। এরপর আলোচনায় আসে অ্যানিমেশন টিজার। দর্শক ভিন্ন এক শাকিব খানকে দেখেন..

হাওয়ার পর চার বছর বিরতি দিয়ে রইদ নিয়ে ফিরছেন মেজবাউর রহমান সুমন। সিনেমার ট্রেলার ও পোস্টার আলোচনায় এসেছে। প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমার গান...