Ad space

আবারও ‘দেবদাস’ করতে চান শাকিব খান

প্রকাশ:
6
Image

চন্দ্রমুখী না পার্বতী? কে দেবদাসকে বেশি ভালোবাসে? কিংবা দেবদাসই বা কাকে বেশি ভালোবেসেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়তো শত বছর পরও বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছে ‘দেবদাস’। প্রেম, অভিমান, সামাজিক বন্ধন আর আত্মবিধ্বংসী এক পুরুষের ট্র্যাজেডি-সব মিলিয়ে ‘দেবদাস’ হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রেমের এক অমর আখ্যান।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে উপন্যাসটি লেখেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্যমানের বিচারে তাঁর ‘শ্রীকান্ত’ কিংবা ‘গৃহদাহ’ হয়তো বেশি সমৃদ্ধ; তবু ভালোবাসার করুণ, সরল ও আবেগঘন উপস্থাপনায় ‘দেবদাস’-এর আবেদন অনন্য। আর সে কারণেই রূপালি পর্দায় বারবার ফিরে এসেছে দেবদাস-পার্বতী-চন্দ্রমুখীর গল্প।

দেশে-বিদেশে নানা ভাষায় নির্মিত হয়েছে ‘দেবদাস’ অবলম্বনে অসংখ্য চলচ্চিত্র। কোনটি সেরা, সেই প্রশ্ন কালে কালে আড্ডা ও আলোচনায় বহুবার এসেছে। তবে একটিকে অন্যটির চেয়ে এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখা কঠিন। সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিটি চলচ্চিত্রই দর্শকের কাছে দেবদাসকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে এবং তাকে করেছে সমকালীন ও প্রাসঙ্গিক।

Image

বাংলাদেশে প্রথম ‘দেবদাস’ নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম, ১৯৮২ সালে। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ। পার্বতীর চরিত্রে ছিলেন কবরী সারোয়ার এবং চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় আনোয়ারা। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের অন্যতম বিশ্বস্ত চিত্রায়ণ হিসেবে বিবেচিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে।

এর তিন দশক পর, ২০১৩ সালে, চাষী নজরুল ইসলাম আবারও নতুনভাবে নির্মাণ করেন ‘দেবদাস’। এতে অভিনয় করেন শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও মৌসুমী। নাম ভূমিকায় ছিলেন শাকিব খান। শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এটি ছিল ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।

বাংলা সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। ‘দেবদাস’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, সাহিত্যভিত্তিক গল্পও যতœশীল উপস্থাপনায় দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

ছবিতে ‘দেবদাস’ চরিত্রে শাকিব খানের উপস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অ্যাকশন ও রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করা এই সুপারস্টার প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ট্র্যাজিক নায়কের ভূমিকায় নিজেকে উপস্থাপন করেন। দেবদাসের প্রেম, হতাশা, আত্মবিনাশ এবং মানসিক যন্ত্রণার বিভিন্ন স্তর ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অনেক দর্শক ও সমালোচকের মতে, এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা।

Image

চলচ্চিত্রে পার্বতী বা পারোর চরিত্রে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস এবং চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় ছিলেন মৌসুমী। দুই নায়িকার উপস্থিতি ছবির আবেগঘন পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে। বিশেষ করে দেবদাস-পর্বতীর অপূর্ণ প্রেম এবং চন্দ্রমুখীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা গল্পের মূল আবেগকে পর্দায় তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘দেবদাস’ মুক্তির সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। একদিকে ছিল শরৎচন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাস, অন্যদিকে জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানের ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য না পেলেও সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে শাকিব খানের অভিনয় নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নানা ধরনের মূল্যায়ন দেখা যায়।

Image

মুক্তির প্রায় ১৩ বছর পর সম্প্রতি ‘দেবদাস’ প্রসঙ্গে শাকিব খান ‘আনন্দ আলো’কে বলেন, “এখন এসে মনে হয়, সুযোগ পেলে আমি আবারও ‘দেবদাস’ করতে চাই। যখন এই ছবিটি করেছিলাম, তখন একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করতাম। এখন যখনই ‘দেবদাস’-এর কথা মনে হয়, তখন বারবার মনে হয়, সুযোগ পেলে আরেকবার দেবদাস করব। তখন সময় ও যতœ নিয়ে শতভাগ শ্রম দিতে পারব। আমার মনে হয়, ‘দেবদাস’ এমন একটি চরিত্র, যা করে কোনো শিল্পীরই মন ভরে না।

‘দেবদাস’ যখন করেছিলাম, তখন বছরে ১০ থেকে ১৫টি সিনেমায় অভিনয় করতাম। কিন্তু এখন বছরে দুই-তিনটি কাজ করি। তাই ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও বেশি যতœশীল হয়ে, আরও প্রস্তুতি নিয়ে চরিত্রটি নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই।”

Image

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সাহিত্যনির্ভর কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সেই বিবেচনায় ‘দেবদাস’ একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; বরং সামাজিক প্রথা, শ্রেণিবৈষম্য, অপূর্ণ ভালোবাসা এবং আত্মধ্বংসের এক করুণ উপাখ্যান। আর সেই উপাখ্যানের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে শাকিব খান তাঁর অভিনয়জীবনের একটি ভিন্ন অধ্যায় রচনা করেছিলেন।

Image

মুক্তির এক যুগেরও বেশি সময় পরও ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রটি স্মরণ করা হয় মূলত এর সাহিত্যিক ভিত্তি

Image

চাষী নজরুল ইসলামের নির্মাণশৈলী এবং শাকিব খানের ব্যতিক্রমী অভিনয় প্রচেষ্টার জন্য। বাংলা সাহিত্যের

Image

অমর এই চরিত্রকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রটির অবদান নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...