
একজন ভক্ত গানের অন্যজন অভিনয়ের
ইচ্ছে ঘুড়ি বলে একটা কথা আছে। নাটাই আমার হাতে। আকাশে উড়িয়ে দিলাম ঘুড়ি। এই আনন্দ একাও করা যায়। আবার অন্যদের নিয়েও করা যায়। তবে একার আনন্দের চেয়ে বন্ধু, শুভাকাঙ্খী, স্বজনদের নিয়ে আনন্দ করার মজাই আলাদা

বাংলাদেশের করপোরেট জগতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের পরিচয় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা সময়, সমাজ, অর্থনীতি এবং ভোক্তা মনস্তত্বকেও গুরুত্বপুর্ন করে তোলার ক্ষেত্রেও ইগলুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম কামরুল হাসান সেই ধরনের একজন করপোরেট ব্যক্তিত্ব, যিনি ব্যবসাকে কেবল মুনাফার হিসাব দিয়ে দেখেন না; বরং দেখেন মানুষের আচরণ, মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষা, তরুণদের সক্ষমতা, ভোক্তার পরিবর্তিত মনস্তত্ত্ব এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে।
গত এক দশকে বাংলাদেশের করপোরেট বাস্তবতা দ্রুত বদলেছে। ডিজিটাল সংযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বাজার, দ্রুত নগরায়ণ এবং মধ্যবিত্তের বিস্তার, সব মিলিয়ে ভোক্তার আচরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের বিষয়টি অনেক আগে থেকেই উপলব্ধি করেন জি এম কামরুল হাসান। এ বিষয়ে তিনি মনে করেন, “ভোক্তা এখন খুব পাওয়ারফুল। তাকে বোকা ভাবার সুযোগ নেই।” ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তার এই কথাটি অত্যন্ত বাস্তব এবং গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, আজকের ভোক্তা শুধু পণ্য কেনেন না; তিনি পণ্যের গুণগত মান বিচার করেন, ব্র্যান্ডের নৈতিক অবস্থান মূল্যায়ন করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং মুহূর্তেই একটি ব্র্যান্ডকে জনপ্রিয় কিংবা বিতর্কিত করে তুলতে পারেন। একসময় ঢাকার ভোক্তা আর পঞ্চগড়ের ভোক্তার মধ্যে মানসিক দূরত্ব ছিল। এখন আর নেই। একটি পণ্য রাজধানীতে যেমন মানসম্পন্ন হতে হয়, তেমনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একই মান বজায় রাখতে হয়। এই পরিবর্তন বুঝতে পারার মধ্যেই কামরুল হাসানের করপোরেট দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি নিহিত।
বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ও জনপ্রিয় আইসক্রিম ব্র্যান্ড ইগলু এখন শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়; এটি মধ্যবিত্তের আবেগ, পারিবারিক উদযাপন এবং নগর জীবনের এক সাংস্কৃতিক অংশে পরিণত হয়েছে। ইগলুর পেছনে থাকা প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামো, খাদ্য ও ভোক্তা পণ্যের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল কিংবা বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। সেই প্রতিষ্ঠানের খাদ্য ও ভোক্তা পণ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে জি এম কামরুল হাসান বরাবরই চেষ্টা করেছেন ব্র্যান্ডকে শুধু বিজ্ঞাপনের ভাষায় নয়, ভোক্তার আস্থার জায়গা থেকে প্রতিষ্ঠা করতে।
তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে ঘিরে। তিনি মনে করেন, অর্থনীতির প্রকৃত গতি আসে মধ্যবিত্তের ব্যয়ক্ষমতা ও আকাঙ্ক্ষা থেকে। এই বিশ্লেষণ এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলেও মধ্যবিত্তের ভোগব্যয় পুরোপুরি থেমে যায়নি। বরং তারা উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান, সন্তানদের শিক্ষা, প্রযুক্তিপণ্য কিংবা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পেছনে ব্যয় করতে চায়। কামরুল হাসান এই মানসিকতাকে “অ্যাসপিরেশন ইকোনমি” হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, যে সমাজ স্বপ্ন দেখে, সেই সমাজই বাজার তৈরি করে।
বাংলাদেশের খুচরা বাজার, ই-কমার্স, খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রনিক্স কিংবা লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোর প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যবিত্তই এখনও প্রধান চালিকাশক্তি। কামরুল হাসান মনে করেন, অর্থনীতি তখনই সচল থাকে, যখন টাকা বাজারে ঘুরে। এই বক্তব্যের পেছনে বাস্তব অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে। কারণ ভোগব্যয় কমে গেলে উৎপাদন কমে, উৎপাদন কমলে কর্মসংস্থান কমে, আর কর্মসংস্থান কমলে পুরো অর্থনৈতিক চক্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে তিনি শুধু ভোগবাদী অর্থনীতির কথা বলেননি; বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রশ্নটিকেও সামনে এনেছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর সমালোচনা ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য তারা প্রস্তুত থাকে না। ২০২৬ সালের বাংলাদেশেও এই সংকট প্রকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাড়ছে, কিন্তু দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রযুক্তি, বিপণন, যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা, নেতৃত্ব এসব জায়গায় এখনও বড় দুর্বলতা রয়েছে।
তিনি করপোরেট সংস্কৃতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, করপোরেট মানে শুধু অফিস নয়; বরং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করা। তিনি করপোরেট সংস্কৃতিকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যেখানে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। এই ধারণা বাংলাদেশের করপোরেট বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের অনেক পারিবারিক ব্যবসা এখনও ব্যক্তি-নির্ভর ব্যবস্থাপনা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিকেন্দ্রীকরণ, পেশাদার নেতৃত্ব, কর্মীদের ওপর আস্থা-এসব জায়গায় এখনও ঘাটতি রয়েছে।

কামরুল হাসান মনে করেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এই জায়গায় এগিয়ে কারণ তারা দায়িত্ব বণ্টন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ এখনও মালিক-কেন্দ্রিক। এর ফলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা তৈরি হলেও অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা থাকে না। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের করপোরেট বিবর্তনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
তার মতে, বাংলাদেশের করপোরেট বাস্তবতায় আরেকটি বড় সমস্যা হলো দক্ষ বিদেশি জনশক্তির ওপর নির্ভরতা। কামরুল হাসান বহু আগে সতর্ক করেছিলেন, দেশের বহু শিল্পখাত এখনও বিদেশি ব্যবস্থাপক ও বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ভারত, শ্রীলঙ্কা কিংবা অন্যান্য দেশের পেশাজীবীরা উচ্চ পর্যায়ের পদে কাজ করছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশি তরুণরা তাহলে কোথায় যাবে? এই প্রশ্ন এখনও প্রাসঙ্গিক। কারণ জনসংখ্যাগত সুবিধা তখনই কাজে লাগবে, যখন সেই জনসংখ্যাকে দক্ষতায় রূপান্তর করা যাবে।
তিনি “করপোরেট কোচ” ধারণার কথাও বলেন। এটি মূলত তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এক ধরনের দিকনির্দেশনামূলক উদ্যোগ। তাঁর বিশ্বাস, একজন ভালো কোচ শুধু খেলার ফল বদলান না; মানুষের জীবনও বদলে দিতে পারেন। বাংলাদেশের করপোরেট জগতে এই ধরনের মেন্টরশিপ সংস্কৃতি এখনও দুর্বল। অথচ কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ এবং নেতৃত্ব তৈরিতে এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জি এম কামরুল হাসানের বক্তব্যের একটি বড় শক্তি হলো তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি নেতিবাচকতা দিয়ে বাজার বিশ্লেষণ করেন না। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, কারণ এখানে বড় ভোক্তা শ্রেণি আছে, তরুণ জনসংখ্যা আছে এবং মানুষ স্বপ্ন দেখতে জানে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতি, দক্ষতা, করপোরেট সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
আজকের বাংলাদেশে যখন ব্যবসা, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ এবং শিল্পখাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন জি এম কামরুল হাসানের মতো করপোরেট ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য নতুনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ তিনি কেবল পণ্য বিক্রির ভাষায় কথা বলেননি; বরং সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রশ্নকে করপোরেট আলোচনার অংশ করেছেন।
বাংলাদেশের করপোরেট জগৎ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, অনলাইন ভোক্তা সংস্কৃতি, পরিবর্তিত শ্রমবাজার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে ব্যবসার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের যুগে যে করপোরেট নেতৃত্ব ভোক্তার মনস্তত্ত্ব বুঝবে, মানবসম্পদে বিনিয়োগ করবে এবং সামাজিক আস্থাকে গুরুত্ব দেবে, ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত তাদের হাতেই যাবে। জি এম কামরুল হাসানের দীর্ঘ করপোরেট যাত্রা অন্তত সেই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের করপোরেট বাস্তবতায় জি এম কামরুল হাসানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, বাজারকে কেবল বিক্রির জায়গা হিসেবে না দেখে সামাজিক আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা। তিনি একাধিক আলোচনায় বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবগতভাবে উৎসবপ্রিয় এবং এই উৎসবমুখর মানসিকতা অর্থনীতিকে সচল রাখে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, রমজান মাস থেকে শুরু করে ঈদ, পূজা কিংবা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান সবকিছুতেই বাংলাদেশি ভোক্তা ব্যয় করতে পছন্দ করেন। এই ব্যয়কে তিনি শুধু “খরচ” হিসেবে দেখেননি; বরং অর্থনীতির ভেতরে অর্থের প্রবাহ তৈরির একটি শক্তি হিসেবে দেখেছেন।
এই জায়গায় এসে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর বক্তব্য মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশের ভোক্তা বাজার পুরোপুরি স্থবির হয়নি। ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা, খাদ্যপণ্য, পোশাক, প্রযুক্তিপণ্য, রেস্তোরাঁ কিংবা বিনোদন খাত-সবখানেই মধ্যবিত্তের উপস্থিতি এখনও দৃশ্যমান। কামরুল হাসানের ভাষায়, “মানি যদি স্টাক থাকে তাহলে ইকোনমি গ্রো করবে না।” এই বক্তব্যের ভেতরে একটি মৌলিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা আছে। কারণ বাজারে অর্থের চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শিল্প, উৎপাদন, কর্মসংস্থান সবকিছুই ধীর হয়ে পড়ে।
তিনি ভোক্তার আচরণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন- ডিজিটাল স্বচ্ছতা। তাঁর মতে, এখন আর কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে নি¤œমানের পণ্য দিয়ে টিকে থাকতে পারবে না। কারণ ভোক্তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। কয়েক বছর আগে তিনি বলেছিলেন, পঞ্চগড়ের একজন গ্রাহকও ঢাকার গ্রাহকের মতো একই মানের পণ্য চায়। আজকের ই-কমার্স ও ফেসবুক-নির্ভর বাজারে এই কথার গভীরতা আরও বেড়েছে। এখন একটি নেতিবাচক রিভিউ কিংবা একটি ভাইরাল ভিডিও একটি প্রতিষ্ঠানের বহু বছরের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই বাস্তবতা ইগলুর মতো খাদ্যপণ্যভিত্তিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা, সংরক্ষণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মান নিয়ন্ত্রণ সবকিছু এখন সরাসরি ভোক্তার নজরদারির মধ্যে। কামরুল হাসান তাই বরাবরই কোয়ালিটি ও ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতির প্রশ্নকে সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিজ্ঞাপনে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, পণ্যে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাজার শেষ পর্যন্ত ব্র্যান্ডকে প্রত্যাখ্যান করবে।
বাংলাদেশের করপোরেট জগতে তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো “মানুষে বিনিয়োগ” ধারণাটিকে সামনে আনা। তিনি বহুবার বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মেশিন কিনতে শত কোটি টাকা ব্যয় করেন, কিন্তু কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে তুলনামূলকভাবে খুব কম ব্যয় করেন। এই বক্তব্য এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, কারণ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রযুক্তির চেয়ে দক্ষ মানবসম্পদই সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও কর্মীকে “রিসোর্স” হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু “অ্যাসেট” হিসেবে দেখা হয় না। জি এম কামরুল হাসান এই মানসিকতার সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া মানে অপচয় নয়; বরং সেটিই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তিনি উদাহরণ হিসেবে খেলাধুলার কথাও টেনেছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দেরও প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাহলে করপোরেট কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আপত্তি কেন?
বাংলাদেশের জাতীয় কোম্পানিগুলোর সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি মনে করেন, দেশের ব্যবসার বড় অংশ এখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে। বাস্তবেও দেখা যায়, খাদ্যপণ্য, ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, ই-কমার্স, ব্যাংকিং কিংবা ভোগ্যপণ্যের বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। ইগলুর মতো ব্র্যান্ডগুলোও সেই পরিবর্তনের প্রতীক। একসময় বহুজাতিক ব্র্যান্ডের আধিপত্য থাকলেও এখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও ভোক্তার আস্থা অর্জন করছে।
তবে এই সফলতার ভেতরেও তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধু বিজ্ঞাপন বা আবেগ দিয়ে ব্র্যান্ড টিকিয়ে রাখা যাবে না। ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখন ভোক্তা শুধু পণ্যের ক্রেতা নয়; তিনি একই সঙ্গে সমালোচক, পর্যালোচক এবং জনমত নির্মাতা।
জি এম কামরুল হাসানকে তাই কেবল একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি এমন এক করপোরেট ব্যক্তিত্ব, যিনি ব্যবসাকে সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, মানবসম্পদ এবং ভোক্তা সংস্কৃতির বৃহত্তর বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে যেমন বাজারের ভাষা আছে, তেমনি আছে মানবসম্পদ উন্নয়নের চিন্তা; যেমন আছে মধ্যবিত্ত অর্থনীতির বিশ্লেষণ, তেমনি আছে করপোরেট সুশাসনের প্রশ্ন।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...

ইচ্ছে ঘুড়ি বলে একটা কথা আছে। নাটাই আমার হাতে। আকাশে উড়িয়ে দিলাম ঘুড়ি। এই আনন্দ একাও করা যায়। আবার অন্যদের নিয়েও করা যায়। তবে একার আনন্দের চেয়ে বন্ধু, শুভাকাঙ্খী, স্বজনদের নিয়ে আনন্দ করার মজাই আলাদা

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অতিব জরুরি। এজন্য স্থবির হয়ে পড়া আবাসন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা

এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মো. ফজলুর রহমান এবি ব্যাংক পিএলসি.-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. ফজলুর রহমান, এফসিএ নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৮ জুন ২০২৬ থেকে

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিনকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিন বছরের জন্য তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে স্টিল শিল্পের বিকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অবকাঠামো নির্মাণ, আবাসন খাত, সেতু, সড়ক, শিল্পকারখানা কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল-প্রায় সব উন্নয়ন কর্মকা-ের পেছনেই রয়েছে স্টিল শিল্পের অবদান।

বাংলাদেশে বহুজাতিক করপোরেট নেতৃত্ব, ডিজিটাল পেমেন্ট খাত এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় পরিচিত একটি নাম সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের গল্পে সাধারণত দুটি বিষয় খুব কমই একসঙ্গে দেখা যায়-একদিকে উৎপাদনমুখী শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে স্পষ্ট ও বিশ্লেষণধর্মী অবস্থান।

সারা বিশ্বজুড়ে চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা। অনেক দেশের চেয়ে এ দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা বেশি। চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র এখন খেলা নিয়ে আলোচনা। সেই সঙ্গে চলছে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর হিড়িক।