ইচ্ছে ঘুড়ি বলে একটা কথা আছে। নাটাই আমার হাতে। আকাশে উড়িয়ে দিলাম ঘুড়ি। এই আনন্দ একাও করা যায়। আবার অন্যদের নিয়েও করা যায়। তবে একার আনন্দের চেয়ে বন্ধু, শুভাকাঙ্খী, স্বজনদের নিয়ে আনন্দ করার মজাই আলাদা। এজন্য খুব যে একটা পরিকল্পনার দরকার আছে তা নয়। শুধু প্রয়োজন প্রিয় মুহূর্তকে আরও প্রিয় ও গুরুত্ববহ করে তোলার জন্য আকাশের মতো উদার একটি মন এবং আন্তরিক ভালোবাসা। এমন একটি সচিত্র গল্প শোনাই আপনাদের। গল্প সাধারনত কল্পনা থেকে তৈরি হয়। এই গল্প কল্পনার নয়। বাস্তবের গল্প। আসুন গল্পে ঢুকে যাই।
চঞ্চল চৌধুরী। এক নামেই যিনি বিখ্যাত। সুঅভিনেতা, জনপ্রিয় গায়কও বটে। নিজের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের ব্যাপক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান তারকাকথন-এ অতিথি হিসেবে এসেছিলেন চঞ্চল। অনুষ্ঠান শেষে অভ্যাসবশত: চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর রুমে যান। রুমে ঢুকেই চঞ্চল অবাক। তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলো বিশেষ একটি চমক। উপমহাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে সঙ্গে নিয়ে চঞ্চল চৌধুরীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন ফরিদুর রেজা সাগর। যা ছিল চঞ্চল চৌধুরীর কল্পনারও বাইরে। পারস্পারিক কুশল বিনিময় ও সৌজন্যতা প্রকাশের মাধ্যমেই হয়তো ঘটনার ইতি টানা যেতো।
কিন্তু ফরিদুর রেজা সাগরের উদারতায় দুই বরেণ্য শিল্পীর মধ্যে প্রবীণ-নবীণের আলোকউজ্জ্বল সম্পর্কের দ্যূতি ছড়িয়ে পড়ে। মুখোমুখি আড্ডায় বসেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও চঞ্চল চৌধুরী। সূত্রধরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ফরিদুর রেজা সাগর। কোনো প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই দুই শিল্পীর আন্তরিক আড্ডায় প্রবীণের প্রতি নবীণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং নবীণের প্রতি প্রবীণের আদর, ¯েœহ, ভালোবাসার শক্তিই উদ্ভাসিত হতে থাকে। একজন ভক্ত গানের আরেকজন ভক্ত অভিনয়ের। জমে ওঠে প্রাণের আড্ডা।
রেজওয়ানা চৌধুরী বললেন, চঞ্চল চৌধুরীর জন্মদিনের কথা আমি জানতাম না। সাগর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য চ্যানেল আইতে এসেছিলাম। যখন শুনলাম যে চঞ্চল চৌধুরীর জন্মদিন নিয়ে চ্যানেল আইতে অনুষ্ঠান হচ্ছে তখন ভাবলাম, অনুষ্ঠান শেষ হোক। চঞ্চল নিশ্চয়ই সাগর ভাইয়ের রুমে আসবে। আমি ওর সঙ্গে দেখা করব। অভিনয়ের তো বটেই আমি ওর গানেরও গুণমুগ্ধ ভক্ত। ও ভাালো গান গায়। তাই ভাবলাম আমি যার অনুরাগী তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হারাব কেন?
চঞ্চল চৌধুরী বললেন, যখন থেকে গান শোনা শুরু করি তখন থেকেই আমি রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভক্ত হয়ে যাই। বন্যা আপার গান শুনেই মূলত: রবীন্দ্র সঙ্গীতের প্রতি অনুরক্ত হই। ভাবতে ভালো লাগতো যে আমাদেরও একজন জগৎখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী আছে তাঁর নাম রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আমি রবীন্দ্র সঙ্গীতের একনিষ্ঠ শ্রোতা। সেক্ষেত্রে যদি বলি, ওপার বাংলায় যারা যারা বড় বড় গাইয়ে তাদের চেয়ে আমাদের বন্যা আপাই শ্রেষ্ঠ। বন্যা আপা আমার কাছে ছোটবেলা থেকেই চমক। আজকে প্রথম তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি কথা হচ্ছে।
আমি চ্যানেল আইতে এলেই সাগর ভাইয়ের রুমে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করি। আমাদের সম্পর্ক বহু বছরের। সাগর ভাই আমাকে অত্যধিক ¯েœহ করেন। তারকা কথনে কথা বলা শেষ করে সাগর ভাইয়ের রুমে এসে দেখি বন্যা আপা বসে আছেন। এটা আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। সাগর ভাইয়ের কল্যানেই এটা সম্ভব হল।
চঞ্চল চৌধুরীর কথার সূত্র ধরে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বললেন, চঞ্চল অসম্ভব পাওয়ার ফুল একজন অ্যাক্টর। মনপুরার কথা বলি। অসাধারন অভিনয় করেছে। শুধু মনপুরা নয় প্রতিটি সিনেমায় তার চরিত্রের অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করেছে। ও চরিত্রের সঙ্গে মিশে যায়। তখন সে ব্যক্তি চঞ্চল চৌধুরী থাকে না। সে কলকাতায়ও ব্যাপক জনপ্রিয় অভিনেতা। তার জন্য আমার বেশ গর্ব হয়। আজকের আড্ডাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে।
বিশেষ এই আড্ডায় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সঙ্গে গানে কণ্ঠ মেলান চঞ্চল চৌধুরী। আড্ডায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নির্মাতা, উপস্থাপক আফসানা মিমি, বিশিষ্ট নাট্যকার চ্যানেল আই এর এক্সকিউটিভ ডিরেক্টর হারুন রশীদ, চ্যানেল আই এর প্রয়োজক অনন্যা রুমা এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পুত্রবধু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।