Ad space

বিনিয়োগ নিয়ে শুধু কথা বললে হবে না, সরকারকে স্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে

প্রকাশ:
5

বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের গল্পে সাধারণত দুটি বিষয় খুব কমই একসঙ্গে দেখা যায়-একদিকে উৎপাদনমুখী শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে স্পষ্ট ও বিশ্লেষণধর্মী অবস্থান। সৈয়দ নাসির সেই বিরল ব্যতিক্রমদের একজন। তিনি যেমন সফল শিল্পোদ্যোক্তা, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিয়মিত মতামত দেওয়া একজন পর্যবেক্ষকও। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে বাংলাদেশের শিল্পায়নের উত্থান-পতন, ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা, বিনিয়োগ পরিবেশের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিনির্ধারণের শক্তি ও দুর্বলতা-সবই তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।

বর্তমানে টঙ্গী ও চট্টগ্রামে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলো থেকে তৈরি হচ্ছে রঙের ক্যান, প্লাস্টিক কনটেইনার, আইসক্রিম বক্স, ওষুধের বোতলসহ নানা ধরনের শিল্পপণ্য। দেশের প্রায় সব বড় রঙ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। অথচ এই পথচলার শুরু ছিল একেবারেই ভিন্ন।

চট্টগ্রামের একজন মেধাবী তরুণ সৈয়দ নাসির বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসেছিলেন। ১৯৯১ সালের সেই যাত্রাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ট্রেনে পরিচয় হয় বার্জার পেইন্টসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সঙ্গে। চাকরির খোঁজে থাকা তরুণকে তিনি চাকরি নয়, ব্যবসার পরামর্শ দেন। রঙের ক্যান তৈরির একটি সম্ভাবনাময় বাজারের কথা তুলে ধরেন। সেই পরামর্শই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে একজন শিল্পোদ্যোক্তার জন্মকথা।

চট্টগ্রামে ফিরে বাবার অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে পাওয়া এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে কারখানা স্থাপন করেন সৈয়দ নাসির। ১৯৯২ সালে বার্জারের জন্য টিনের ক্যান উৎপাদন শুরু করেন। সেই শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই উল্লেখ করেন, “বাবার অবসরের টাকাই ছিল আমার ব্যবসার প্রথম মূলধন।”

শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁর কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার সুর শোনা যায়। ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ে সোনালী ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণ তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের প্রথম বড় সহায়তা। পরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বহু শিল্পোদ্যোক্তার পেছনে ব্যাংকিং খাতের ইতিবাচক অবদান রয়েছে।

Image

সৈয়দ নাসির বিশ্বাস করেন, উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কারণ একটি কারখানা শুধু মালিকের ব্যবসা নয়, কর্মসংস্থান, কর রাজস্ব, প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তি তৈরিরও মাধ্যম।

তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ১৯৯৯ সালে। সে সময় একটি ব্যাংক থেকে ৫৫ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে কারখানা সম্প্রসারণ করেন। তিনি পরে স্বীকার করেছেন, ওই ঋণই তাঁর ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু উদ্যোক্তা জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন ধাক্কাও এসেছে।

এক সময় বার্জার নিজস্ব ক্যান উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। যেহেতু বার্জারই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ক্রেতা, তাই ব্যবসা বড় সংকটে পড়ে। অনেক উদ্যোক্তার মতো তিনিও তখন ব্যর্থতার মুখোমুখি হন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। নতুন গ্রাহক খুঁজেছেন, নতুন প্রযুক্তি শিখেছেন, নতুন বাজার তৈরি করেছেন।

বিশ্বব্যাপী শিল্প উৎপাদনের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি টিনের ক্যান থেকে প্লাস্টিক কনটেইনার উৎপাদনে ঝুঁকেন। নতুন প্রযুক্তি শেখার জন্য ঢাকায় এসে হোটেলে থেকে কাজ শিখেছেন। পরে আবার চট্টগ্রামে ফিরে উৎপাদন শুরু করেছেন। সেই অভিযোজন ক্ষমতাই তাঁকে টিকিয়ে রেখেছে।

২০০০ সালের পর বাংলাদেশের রঙ শিল্পের কেন্দ্র ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরে আসে। শিল্পের এই পরিবর্তনও তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন। দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় এসে টঙ্গীতে কারখানা স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে দেশে একের পর এক বহুজাতিক রঙ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করলে তাঁর ব্যবসার পরিধিও বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক তালিকায় রয়েছে দেশের ও আন্তর্জাতিক বহু পরিচিত প্রতিষ্ঠান। কয়েকশ কর্মী সরাসরি কাজ করছেন তাঁর কারখানায়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার তাঁর প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তবে শুধুই ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, অর্থনীতি নিয়ে তাঁর ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বারবার উৎপাদন ও বিনিয়োগের প্রশ্নকে সামনে আনেন। তাঁর মতে, অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে ভর্তুকি বা অনুদানের চেয়ে উৎপাদনশীল খাতে জোর দেওয়া বেশি প্রয়োজন।

এক টেলিভিশন আলোচনায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “দেওয়ার সংস্কৃতি দিয়ে অর্থনীতিতে গতি আসে না। অর্থনীতির গতি আনতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।”

Image

সৈয়দ নাসিরের এই বক্তব্য মূলত একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটি যেন উৎপাদনমুখী অর্থনীতির বিকল্প না হয়ে যায়। একটি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় যখন নতুন কারখানা গড়ে ওঠে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয় এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

একইভাবে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলেন। তাঁর মতে, শুধু বিনিয়োগের কথা বললেই হবে না, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। নীতিগত স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ছাড়া বড় বিনিয়োগ আসা কঠিন।

জ্বালানি খাত নিয়ে তাঁর উদ্বেগও দীর্ঘদিনের। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম দুর্বলতা হলো আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার কারণে দেশকে বারবার চাপের মুখে পড়তে হয়।

তাঁর ভাষায়, “আমাদের কোনো জ্বালানি নিরাপত্তা নেই। আমরা আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর দাঁড়িয়ে আছি। ফলে বিশ্ববাজারের ওঠানামার মধ্যে দেশকে পিংপং বলের মতো ভাসতে হয়।”

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু বর্তমান সংকট নয়, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত ঘাটতির দিকেও ইঙ্গিত করেন। তাঁর মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোতে হবে।

একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে উৎপাদন লাইনের ভেতর থেকে দেশের অর্থনীতিকে দেখার যে অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে, সেটিই তাঁর মন্তব্যগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দেয়। কারণ তিনি অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন কেবল একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে নয়, বরং একজন উৎপাদক, বিনিয়োগকারী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে।

উৎপাদনশীল অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা কিংবা বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি সৈয়দ নাসির বারবার প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থের ঘাটতি নয়, বরং চিন্তার সীমাবদ্ধতা। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী মহল এবং প্রশাসনিক কাঠামো বহু ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। ফলে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি প্রয়োজনের তুলনায় ধীর হয়েছে।

প্রযুক্তি গ্রহণে বাংলাদেশের অতীতের কিছু সিদ্ধান্তকে তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তি বা নতুন ব্যবসায়িক মডেল আসার সময় অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক আশঙ্কা সামনে চলে আসে। অথচ বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, যে রাষ্ট্র নতুন প্রযুক্তিকে দ্রুত গ্রহণ করতে পারে, সেই রাষ্ট্রই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যায়। শিল্পায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর কিংবা বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার জন্য এই মানসিক পরিবর্তন জরুরি।

সৈয়দ নাসিরের শিল্পদর্শনের একটি বড় দিক হলো কর্মীদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। টঙ্গী ও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোতে কয়েকশ কর্মী কাজ করেন। তিনি প্রায়ই বলেন, কর্মীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের অংশ। কারখানার ভেতরে ব্যাংকের এটিএম বুথ স্থাপন থেকে শুরু করে নিয়মিত বেতন পরিশোধ এবং কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে তিনি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। তাঁর বক্তব্য, “কর্মীরা ভালো থাকলে প্রতিষ্ঠান ভালো থাকবে, প্রতিষ্ঠান ভালো থাকলে উদ্যোক্তাও ভালো থাকবে।”

Image

বাংলাদেশের শিল্পখাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বারবার উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিল্পায়ন হয় না। প্রযুক্তি পরিচালনা করতে পারে, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বুঝতে পারে এবং বৈশ্বিক মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করতে পারে-এমন দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। নতুবা শিল্পায়নের গতি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন হবে।

অর্থনীতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সম্পর্ক। তিনি মনে করেন, কোনো অর্থনীতিতে যদি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে যায়, তাহলে কর্মসংস্থান কমে যায়, উৎপাদন কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধিও চাপে পড়ে। তাই তিনি সবসময় উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।

সৈয়দ নাসিরের ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা দর্শনের একটি মানবিক দিক রয়েছে। তিনি প্রায়ই বলেন, একজন উদ্যোক্তার দায়িত্ব শুধু মুনাফা অর্জন নয়। সমাজ, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিও তাঁর দায় রয়েছে। এই চিন্তাভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় প্লাস্টিক শিল্প নিয়ে তাঁর মন্তব্যে।

যদিও তাঁর প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান পণ্য প্লাস্টিক কনটেইনার, তবুও পরিবেশ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার আধুনিক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তাঁর ভাষায়, “প্লাস্টিকের পণ্য তৈরি করছি। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি, সেটাও ভাবতে হয়।”

এই আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অন্য অনেক উদ্যোক্তার থেকে আলাদা করে। কারণ তিনি শুধু বর্তমান বাজার বা মুনাফার হিসাব দেখেন না; ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়েও ভাবেন।

বর্তমানে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরে তাঁর নতুন কারখানার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব মানদ- অনুসরণ করে নির্মিত এই কারখানা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতীক। উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের একটি ছোট কারখানা থেকে শুরু করে শতকোটি টাকার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই যাত্রা কেবল একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্পখাতের বিকাশ, ব্যাংকিং সহায়তার ইতিবাচক ভূমিকা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উদ্যোক্তা মানসিকতারও গল্প।

আজ যখন বাংলাদেশ নতুন শিল্পায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির পথ খুঁজছে, তখন সৈয়দ নাসিরের মতো উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ তিনি অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন পরিসংখ্যানের ভাষায় নয়, উৎপাদন লাইনের ভাষায়; বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলেন নীতিপত্রের ভাষায় নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। আর সেই কারণেই তাঁর মন্তব্যগুলো শুধু একজন ব্যবসায়ীর মতামত নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্প অর্থনীতির ভেতর থেকে উঠে আসা একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...