
দম আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা

দম’ সিনেমার গল্পটা যে কাঠামোয় দাঁড়িয়ে আছে, এটিকে সরলভাবে ‘বেঁচে থাকার লড়াই’ বললে পুরোটা ধরা যায় না। এটি আসলে একাধিক স্তরের একটি সারভাইভাল-ড্রামা। এই সিনেমার কেন্দ্রে আছেন একজন সাধারণ মানুষ, যার নাম শাহজাহান নূর। তাঁর জীবন শুরু হয় খুব পরিচিত বাস্তবতা থেকে-সীমিত সুযোগ, চাপ, অনিশ্চয়তা। তবে গল্প যত এগোয়, তার চারপাশের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তাঁকে এমন এক জায়গায় ঠেলে দেয়, যেখানে বেঁচে থাকাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে ‘সারভাইভাল’ শুধু শারীরিক নয়-মানসিক, সামাজিক, এমনকি নৈতিক দিক থেকেও। শাহজাহানকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেগুলো তাঁর ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং মানবিকতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
শাহজাহান নূর চরিত্রের জন্য আপনি কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন? জানতে চাইলে-
আফরান নিশো বললেন, শাহজাহান নূর আমার জন্য শুধু একটা চরিত্র ছিল না। এটি ছিল এক ধরনের জার্নি। নিজেকে ভাঙার, আবার নতুন করে গড়ার। এই চরিত্রের জন্য আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটা ঝুঁকি নিতে হয়েছে। আগে আমার ওজন ছিল ৮৪ কেজির মতো, পরে একটা সময় ৯৬-এও গিয়েছিল। ‘দম’-এর জন্য পরিচালক যখন বললেন ৭৫-এ নামাতে হবে, তখন বুঝেছিলাম এটি সহজ হবে না। তারপরও মনে হয়েছে, যদি এই গল্পটা ঠিকভাবে বলতে চাই, তাহলে আমাকে এই পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই যেতে হবে। ওজন কমানোটা শুধু সংখ্যা কমানো না। এটি ছিল প্রতিদিন নিজের সঙ্গে লড়াই। ডায়েট কন্ট্রোল, নিয়মিত ওয়ার্কআউট, অনেক কিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখা। অনেক সময় ক্লান্ত লাগত, কিন্তু মনে হতো, এই কষ্টটাই তো চরিত্রটার একটা অংশ। মানসিক দিক থেকেও নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়েছে। শাহজাহান এমন একজন মানুষ, যিনি প্রতিনিয়ত একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে বাঁচেন। সেই ভয়, সেই চাপ। এই অনুভূতিগুলো নিজের মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি

কাজাখস্তানে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? জানতে চাইলে-
আফরান নিশো বললেন, কাজাখস্তানে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। বিশেষ করে কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কাজ করা একেবারেই অন্যরকম ছিল। এতদিন যত কাজ করেছি, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। সেখানকার ঠান্ডাটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা হয়তো মাইনাস ৮ ডিগ্রির মতো ছিল, কিন্তু অনুভূত হতো মাইনাস ১৫-এর কাছাকাছি। সেই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করা, সংলাপ বলা, শরীর ঠিক রাখা–সবকিছুই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপরও সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, পুরো টিম একসঙ্গে থেকে কাজটা শেষ করেছে। এমন পরিবেশে শুটিং করা মানে শুধু অভিনয় না, এটি আসলে একটা টিকে থাকার সংগ্রাম। প্রতিদিনই মনে হয়েছে, আমরা শুধু একটা সিনেমা বানাচ্ছি না, নিজেদের সীমা অতিক্রম করার একটা লড়াইও করছি।
আপনার অন্যান্য কাজের তুলনায় ‘দম’ কতটা আলাদা?
এক প্রশ্নের জবাবে আফরান নিশো বললেন, সুড়ঙ্গ বা দাগি এই সিনেমাগুলো চরিত্র আর ন্যারেটিভই ছিল কেন্দ্রবিন্দুতে। ‘দম’-এর ক্ষেত্রে ক্যানভাসটা অনেক বড়। এখানে শুধু গল্প না। ভৌগোলিক পরিবেশ, বড় পরিসর এবং চরিত্রের ভেতরের জার্নি। সবকিছুই অনেক বেশি বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘দম’ শুধু আরেকটা সিনেমা না। এটা আমার জন্য একেবারে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা, যেখানে একজন অভিনেতা হিসেবে আমাকে নিজের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...








