পরিবেশ বান্ধব স্থাপত্য করে যাচ্ছেন স্থপতি জিসান ফুয়াদ
প্রকাশ:
4
স্থপতি জিসান ফুয়াদ চৌধুরী স্থাপত্য পেশা ও শিক্ষকতার সাথে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। তিনি আহ্সান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে এই স্থপতি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১০ সালে তিনি জার্মানির বাওহাউস ইউনিভার্সিটি থেকে নগর নকশা ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থাপত্য চর্চাও চলছে। তাঁর রয়েছে “জেনাস অ্যার্কিটেক্টস” নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু নান্দনিক স্থাপনার নকশা ও ইন্টেরিয়র করেছেন। এবার শাহ্ সিমেন্ট নির্মাণে আমিতে স্বনামধন্য এই স্থপতিকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক
আমার স্থাপত্য দর্শন বিশ্বাস করে যে সবচেয়ে অর্থবহ স্থাপত্য কখনোই সবচেয়ে জটিল নয়; বরং সেটিই সবচেয়ে সৎ, প্রাসঙ্গিক এবং তার পরিবেশ ও মানব জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কথা গুলো বললেন, স্বনামধন্য স্থপতি জিসান ফুয়াদ চৌধুরী।
তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলায়। কিন্তু জন্মও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর বাবার নাম ফুয়াদ আহমেদ চৌধুরী। তিনি একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। মা সাবিহা চৌধুরী গৃহিণী।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিসান এসএসসি পাশ করেন ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হন আহ্সান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে। ২০০৪ সালে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন। পাশ করে বের হয়ে জিসান বেশ কিছু দিন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। ২০০৭ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান জার্মানিতে। ২০১০ সালে জার্মানির বাওহাউস ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে স্থপতি জিসান লেকচারার হিসেবে যোগ দেন আহ্সান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর স্থাপত্য বিভাগে। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের তিনি স্থাপত্যের নানা বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন।
২০১১ সালে স্থপতি জিসান ফুয়াদ গড়ে তোলেন “জেনাস আর্কিটেক্টস” নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি প্রধান স্থপতি হিসেবে স্থাপত্য পেশা চর্চা করে যাচ্ছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে সিলেটের নীড় ভ্যাকেশন হাউজ, টাঙ্গাইল কালিয়াকৈরে ডুপ্লেক্স ভ্যাকেশন হাউজ, উত্তরায় দিয়া বাড়িতে আটতলা অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, সিলেটের বটেশ্বর ডুপ্লেক্স হাউজ, চট্টগ্রামে মুইন স্কয়ারের ফুডকোর্ট সহ ইন্টেরিয়র ডিজাইন, কাওরান বাজারে সিনেসিস আইটি অফিসের ইন্টেরিয়র, সিলেটে টুয়েন্টি ভিলা ১০ তলা বিল্ডিং এর রেনুভেশন ও ইন্টেরিয়র সহ অসংখ্য স্থাপনার নকশা ও ইন্টেরিয়র করেছেন। এছাড়াও বর্তমানে বেশ কয়েকটি নতুন প্রজেক্টের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করছেন তিনি।
স্থপতি জিসান ফুয়াদ চৌধুরী বলেন, আমি একজন স্থপতি হিসেবে প্রকৃতিকে ভালোবাসি এবং বিশ্বাস করি কোনো সাইট কখনোই একটি ফাঁকা ক্যানভাস নয়; বরং এটি একটি জীবন্ত ব্যবস্থা, যা জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি, উদ্ভিদ, আলো এবং সময়ের মাধ্যমে গঠিত। একজন স্থপতি হিসেবে আমার লক্ষ্য হলো এই সব প্রাকৃতিক শক্তিকে মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সংযমের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানানো, যাতে স্থাপনাটি পরিবেশের উপর আরোপিত না হয়ে বরং সেই প্রেক্ষাপট থেকেই স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চেয়ে সংরক্ষণ কে বেশি গুরুত্ব দেয়, যেখানে প্রতিটি উপাদান নকশার সক্রিয় অংশীদার হয়ে ওঠে, কোনো বাধা নয়। এর ফলস্বরূপ এমন একটি স্থাপত্য সৃষ্টি হয়, যা স্বাভাবিক এবং অবধারিত মনে হয়-যেন সেটি সেখানেই থাকার জন্যই তৈরি হয়েছে।
স্থাপত্যে মিনিমালিজম আমার অনুসৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এখানে এটি শূন্যতা নয়; বরং এটি স্পষ্টতা এবং উদ্দেশ্যের একটি অনুশীলন। অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারণের মাধ্যমে স্থান, আলো এবং উপকরণকে আরও পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। প্রতিটি রেখা, সংযোগ এবং পৃষ্ঠ একটি অর্থ বহন করে। এখানে কিছুই অতিরঞ্জিত নয়; প্রতিটি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে।
“নীড়” ভ্যাকেশন হাউজ স্থাপনাটি নিয়ে স্থপতি জিসান বলেন, ‘নীড়’-এর নকশা ক্লায়েন্টের শিকড়ের প্রতি গভীর আবেগময় সংযোগকে প্রতিফলিত করে, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের স্নেহময় শৈশবস্মৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ হিসেবে, যিনি ভাই বোন ও বিস্তৃত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন, তিনি এমন একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখেছিলেন যা পারিবারিক বন্ধন, একত্রে সময় কাটানো এবং আন্তরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তাই এই বাড়িটি কেবল ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের স্থান নয়; বরং এটি পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার প্রবীণদের মিলনমেলার একটি উন্মুক্ত ও আন্তরিক পরিসর, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে উৎসাহিত করে।
গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য বাড়ির পরিকল্পনায় পাবলিক ও প্রাইভেট অংশকে সুস্পষ্টভাবে পৃথক করা হয়েছে। শয়নকক্ষগুলো মূল সামাজিক পরিসর থেকে দূরে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ব্যক্তিগত পরিসর অক্ষুণ্ণ থাকে। একই সঙ্গে একটি পৃথক সার্ভিস ব্লক রাখা হয়েছে, যা কর্মীদের চলাচল ও কাজের সুবিধা নিশ্চিত করে, অথচ পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যাহত করে না। একাধিক আঙিনা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মকা-ের জন্য নমনীয় স্থান হিসেবে কাজ করে-হোক তা ছোট পরিসরের পারিবারিক আলাপচারিতা বা বৃহত্তর সামাজিক সমাবেশ।
উন্মুক্ত বারান্দা ও আঙিনা গুলো বহুমুখী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার চেতনাকে ধারণ করে। প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত এই বহিরাঙ্গন স্থানগুলো দৈনন্দিন বিশ্রাম, পারিবারিক আড্ডা কিংবা উৎসবমুখর আয়োজন-সব ক্ষেত্রেই আরামদায়ক ও অভিযোজনযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করে।
সামগ্রিকভাবে, ‘নীড়’ একটি ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক ও পরিবেশ-সংবেদনশীল আবাসন, যা আবেগ, ব্যবহারিক চাহিদা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য রচনা করেছে। ফলে এটি তার বাসিন্দা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ-উভয়ের জন্যই একটি অর্থবহ ও মানবিক স্থাপত্যিক প্রতিক্রিয়া হয়ে উঠেছে।
পুরো প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহকৃত উপকরণ এবং দক্ষ স্থানীয় কারিগরদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ সংস্কৃতিকে সমর্থন করেছে। স্টিল ব্যতীত প্রায় সব নির্মাণসামগ্রীই নিকটবর্তী উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কাঠামোগত স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় স্টিল উপাদানগুলো বিশেষায়িত সরবরাহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা মান বজায় রেখে স্থাপন করা হয়েছে, যা ভবনের কাঠামোগত দৃঢ়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
নর্ব্যবহৃত এই কাঠগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে সেগুলো উইপোকামুক্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের উপযোগী থাকে।
প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ গাছই দেশীয় প্রজাতির, পরিবেশবান্ধব এবং সাইটের প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও কারিগরদের সম্পৃক্ততা শুধু ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ কৌশলের স্বকীয়তা বজায় রাখেনি, বরং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে দূরবর্তী স্থান থেকে উপকরণ পরিবহনের প্রয়োজন কমিয়ে কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।
সিলেটের বটেশ্বরে অবস্থিত ডুপ্লেক্স রেসিডেন্স প্রজেক্টটি সম্পর্কে এই স্থপতি বলেন, এই ডুপ্লেক্স আবাসনটি ধীরে ধীরে এবং অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে বিকশিত হয়েছে-যেন ধীর আঁচে রান্না করা একটি সুস্বাদু পদ, যার প্রকৃত সৌন্দর্য ও গভীরতা সময়ের সঙ্গে উন্মোচিত হয়। নকশার প্রতিটি স্তরে সূক্ষ্ম বিবরণ, কারিগরি দক্ষতা এবং স্থানগত গুণমানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্পটির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও, সুপরিকল্পিত বিন্যাস এবং শক্তিশালী স্থাপত্যিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাড়িটি একটি পরিশীলিত জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা প্রদান করে। নিচতলায় সাধারণ ব্যবহার ও অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত পরিসর রাখা হয়েছে, যা পারিবারিক আড্ডা ও অতিথি আপ্যায়নকে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে। অপরদিকে, প্রথম তলাটি পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনযাপনের জন্য নির্ধারিত, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আরাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকল্পটির নকশা চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে অনুপ্রাণিত। এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে ছাদের নকশায় সবুজায়ন ও ল্যান্ডস্কেপ উপাদান সংযোজন করা হয়েছে, যা স্থাপত্যকে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করেছে। প্রাকৃতিক আলো, দৃশ্য এবং বায়ু চলাচলকে সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি স্থানে প্রশান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
কালো, ধূসর এবং সাদার সংযত রঙের সমন্বয় ভবনটিকে দিয়েছে একটি সমসাময়িক অথচ কালজয়ী চরিত্র। অভ্যন্তরীণ নকশায় অনুসরণ করা হয়েছে মিনিমালিস্ট দর্শন, যেখানে সরলতা, অনুপাত, টেক্সচার এবং প্রাকৃতিক আলোই প্রধান নকশা উপাদান।
সীমিত বাজেট কে এই প্রকল্পে কোনো বাধা হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এটিকে একটি সৃজনশীল সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যয়বহুল উপকরণ বা বাহুল্যপূর্ণ অলংকরণের পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানগত অভিজ্ঞতা, সূক্ষ্ম ডিটেইলিং এবং নান্দনিক পরিশুদ্ধতায়। এখানে বিলাসিতা প্রকাশ পেয়েছে স্থান, আলো এবং কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে, উপকরণের জাঁকজমকের মাধ্যমে নয়। ফলস্বরূপ, এই আবাসনটি প্রমাণ করে যে সুচিন্তিত নকশা ও সৃজনশীল পরিকল্পনার মাধ্যমে সীমিত ।
ব্যয়েও একটি মার্জিত, অর্থবহ এবং উচ্চমানের জীবনযাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তরুণ স্থপতিদের উদ্দেশ্য স্থপতি জিসান ফুয়াদ চৌধুরী বলেন, স্থাপত্য শুধু ভবন নকশার বিষয় নয়; এটি অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি এবং সমাজকে গঠন করার একটি মাধ্যম। আপনি যখন আপনার পেশাগত যাত্রা শুরু করছেন, মনে রাখবেন সত্যিকারের ভালো স্থাপত্য জন্ম নেয় কৌতূহল, ধৈর্য এবং মানুষ ও স্থানকে গভীরভাবে বোঝার মধ্য দিয়ে।
আঁকার আগে শিখুন শুনতে। প্রতিটি সাইটের একটি গল্প আছে, প্রতিটি ক্লায়েন্টের একটি স্বপ্ন আছে, এবং প্রতিটি কমিউনিটির নিজস্ব মূল্যবোধ আছে, যা শ্রদ্ধার দাবি রাখে। প্রযুক্তি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে, কিন্তু প্রেক্ষাপট, জলবায়ু, সংস্কৃতি এবং মানুষের প্রয়োজন বোঝার সংবেদনশীলতা চিরকাল অপরিবর্তিত ও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
স্বীকৃতির জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং শেখা, পর্যবেক্ষণ এবং নিজের দক্ষতা শাণিত করার উপর মনোযোগ দিন। অনেক সময় সবচেয়ে অর্থবহ প্রকল্পগুলো বড় বা বিখ্যাত নয়, বরং সেগুলো যা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
চ্যালেঞ্জকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। বিনয়ী থাকুন, অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন এবং কখনো প্রশ্ন করা বন্ধ করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার সততা বজায় রাখা। ট্রেন্ড আসে এবং যায়, কিন্তু যে স্থাপত্য সততা, উদ্দেশ্য এবং দায়িত্ববোধের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেটিই টিকে থাকে। সহানুভূতি দিয়ে নকশা করুন, যতœ নিয়ে নির্মাণ করুন, এবং প্রতিটি স্থানকে আগের চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় রেখে যান।