
সবার উপরে থাকুক মুক্তিযুদ্ধ

আজ ১৬ ডিসেম্বর। আজ বিজয়ের দিন। দেশের জাতীয় দৈনিক গুলোতে বিজয় দিবসকে ঘিরে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। দৈনিক সমকাল শিরোনাম ছেপেছে ‘কেতন উড়িয়ে বার বার আসে বিজয়’। বাংলাদেশ প্রতিদিন শিরোনাম ছেপেছে ‘সবার উপরে মুক্তিযুদ্ধ’। দৈনিক প্রথম আলো শিরোনাম ছেপেছে ‘গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’। দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ ক্রোড়পত্রের একটি লেখার

শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধকে জয়ী হতে হবে’। তার মানে কি দাড়াল? মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বিজয় এখনও পাইনি আমরা। কেন পাইনি?একটা গাছের শেকড় হল আসল। শেকড় ছাড়া গাছ বাঁচে না। বাঁচা সম্ভবও না। তেমনই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের শেকড় হলো ’৭১ সাল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হয়। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। ’৭১ আমাদের অস্থিত্বের শেকড়।১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়। তারপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ৩০ লাখ মানুষের আত্মাহুতি এবং অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৬ ডিসম্বর আজকের দিনে গোটা দেশ শত্রু মুক্ত হয়। সারাদেশে স্বাধীন দেশের পতাকা পত পত করে ওড়ার স্বাধীনতা পায়। আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দিন। বিজয়ের দিন। আনন্দ উৎসবের দিন।কিন্তু এবারের বিজয় দিবসটা যেন অন্যরকম। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। কিন্তু সেই অর্থে মাসটি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে হয় না। বরং যেন অবহেলা, অবজ্ঞার চোরাবালিতে নিমজ্জিত ডিসেম্বর। ইতিহাসের নতুন বয়ানে ক্ষত বিক্ষত ডিসেম্বর। ফলে বিজয়ের আনন্দ যেন অনেকটা ম্লান।কেন এই পরিস্থিতি?’২৪ এর জুলাই গণ অভ্যূত্থান দেশকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। ইতিহাসের গুরুত্বপুর্ন অংশ হয়ে উঠেছে ২৪ এর ছাত্র গণ অভ্যূত্থান। তাই বলে ১৯৭১ কে ভুলে যাব আমরা? এতটাই সহজ? শেকড় কেটে দিলে অথবা শেকড় কাটার চেষ্টা করলে সেই গাছ কি বাচবে? ’৭১ কে অস্বীকার করলে বাংলাদেশের অস্থিত্বই তো থাকে না। বিজয়ের ৫৪ বছর পার করলাম আমরা। তবুও অনেক প্রশ্নের মীমাংসা আজও হল না। দৈনিক প্রথম আলোয় লেখক গবেষক সাঈদ ফেরদৌসের একটি লেখার শিরোনাম তুলে ধরতে চাই। ‘যখন সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা তখন আমরা বিভক্ত’। শিরোনামটি এই সময়ে যথার্থ। একটি দৈনিকে রাজনীতিবিদ, লেখক মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি লেখার শিরোনাম হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে দেশ এগুতে পারবে না।’এটাই সত্য। এটাই বাস্তবতা।আবারও বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...








