Ad space

মিথিলা জয়ী হোক

প্রকাশ:
4
Image
Mithila

ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে মেয়েটি। বাবাহীন জীবন কতটা কষ্টের, কতটা অনিশ্চয়তার তা ভুক্তভোগীরাই জানে। যে হারায় সেই বুঝে হারানোর কষ্ট কেমন! তো, বাবা নেই। মাথার ওপর নির্ভরতার ছাদ সরে গেছে। কম বয়সেই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। কিন্তু মা নির্ভরতার ছাদ হয়ে ওঠেন মেয়েটির জীবনে। কম বয়সে মেয়ের বিয়ের বিপক্ষে তিনি। তার মেয়ে পড়াশুনা করুক। মানুষের মতো মানুষ হোক। তারপর মেয়ের ভাঠষ্যৎ সে নিজেই গড়ে নিতে পারবে। মাকে স্যালুট। কারণ তার দৃঢ়তায় মেয়ে এখন শুধু তার পরিবারের নয় গোটা দেশের জন্য গৌরবের প্রতীক।

যার কথা বলছি তার নাম তানজিয়া জামান মিথিলা। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের প্রতিযোগী হিসেবে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২৫ এর মুকুট জয়ী। ১২১টি দেশের প্রতিযোগী নিয়ে যাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে শুরু হয় মিস ইউনিভার্সের ৭৪ তম আসরের কার্যক্রম।

Image

বর্তমানে চলছে ভোটিং কর্যক্রম। ভোটে ১২১ দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম অবস্থানে উঠে গিয়েছিলেন। বর্তমানে ভোটের ভিত্তিতে তার অবস্থান দ্বিতীয়। মিথিলাকে জেতাতে হলে প্রচুর ভোট দরকার। মিথিলা এক ভিডিও বার্তায় দেশের মানুষের কাছে ভোট চেয়েছে। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ ভোট নির্ধারণ করা হবে দেশ-বিদেশের মানুষের ভোটের ভিত্তিতে। বাকি ৫০ ভাগ ভোট দিবেন প্রতিযোগিতায় নিযুক্ত বিচারকগণ। দুই ক্ষেত্রে যিনি এক নম্বর হবেন তিনিই মিস ইউনিভার্স। এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ভোটিং এ মিথিলার অবস্থান সন্তোষজনক। তবে থাইল্যান্ডের প্রতিযোগী তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। থাইল্যান্ডের সর্বস্তরের মানুষ তাদের প্রতিনিধির পক্ষে ভোট দিচ্ছেন। আবার ভোট জমিয়ে রাখছেন। যাতে সুযোগ বুঝে কোপ মারা যায়। আবারও বলছি মিথিলার সম্ভাবনা আছে ভোটিং এ এক নম্বর হওয়ার। এজন্য তাকে প্রচুর ভোট দিতে হবে। জন সংখ্যার দিক থেকে আমরা গোটা বিশ্বে ব্যাপক আলোচিত দেশ। কাজেই দেশের গৌরবের, কথা ভেবে মিথিলাকে ভোট করতে থাকি তাহলে ভোটিং এর ক্ষেত্রে মিথিলাই এগিয়ে থাকবে

এবার কিছু দুঃখজনক কথা বলি। মিথিলাকে ভোট দেওয়ার জন্য আমাদের, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকারা দেশবাসীর কাছে আহবান জানিয়েছেন। তারা নিজেরাও ভোট দিচ্ছেন । অন্যকেও ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন। মিথিলাকে ভোট দেওয়ার জন্য তরুন প্রজন্মের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো ধর্মের কথা বলে একটি মহল মিথিলার বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছে। মিথিলার বিকিনি পরা নিয়ে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন ট্রল করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এক ভিডিও বার্তায় মিথিলা অশ্রু সিক্ত হয়ে বলেছেন, অন্য দেশের মানুষ ট্রল করলে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু দেশের মানুষ ট্রল করলে কষ্ট পাই। আমি তো দেশের, সুনাম অর্জনের জন্যই সংগ্রাম করছি। মিস ইউনিভার্স হতে হলে আমাকে বিকিনি পরতেই হবে। এখানে ধর্মকে টেনে আনবেন না, প্লিজ…

 মিথিলার এই আহ্বানকেই সবার গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। ভাবুন তো একবার, পৃথিবীর ১২১টি দেশের প্রতিযোগিদের টপকে মিমিলা বর্তমানে মিস ইউনিভার্সের মুকুট জয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আপাতত, একটি ভোট তার জন্য খুবই জরুরি! প্লিজ তাকে একটি ভোট দিন। অন্যকেও ভোট দিতে উৎসাহিত করুন।মিথিলার জন্য আমাদের অনেক শুভ কামনা তুমি নিশ্চয়ই জয়ী হবে বন্ধু…

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...