Ad space

পাকিস্তানী শিল্পীর কনসার্ট বাতিল, অনেক প্রশ্ন অনেক জিজ্ঞাসা…

প্রকাশ:
10
Image

একজন শিল্পীকে কোনো দেশের গন্ডিতে বেধে রাখা ঠিক নয় শিল্পীতো শিল্পীই। এটা যেমন সত্য তেমনই সত্য সময় এবং ইতিহাসের নিরীখে একজন বিদেশী শিল্পীকে নিজের দেশে ডাকবো কি ডাকবো না সেটাও বিবেচনায় রাখা। ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর- আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মূল শেকড়। ডিসেম্বর এবং মার্চ মাস মহান স্বাধীনতার ইতিহাসে কতটা গুরুত্বপুর্ন, কতটা আবেগের মাস সেটা সবাই জানি। পাকহানাদার বাহিনী এদেশের মানুষকে কিভাবে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল এই করুণ, নির্মম, নিষ্ঠুর ইতিহাসও আমরা ভুলিনি। অথচ সেই ডিসেম্বরে যদি পাকিস্তানের কোনো শিল্পীকে ঘটা করে ডেকে এনে কনসার্টের আয়োজন করা হয়, সেটা কতটা ঠিক কাজ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অথচ এই ডিসেম্বরে পাকিস্তানের শিল্পীকে একটি কনসার্টের জন্য ঘটা করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাও আবার ১৩ ডিসেম্বরের দিন। পরের দিন ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। ইতিহাস কি এতটাই নিষ্ঠুর যে, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসের আগের দিন পাকিস্তানের শিল্পীকে ডেকে এনে কনসার্ট করতে হবে? অনেকে হয়তো সেই কথাই বলবেন- দেশ ভেবে কোনো শিল্পীকে গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। মানি সে কথা। কিন্তু সেই দেশ যদি পাকিস্তান হয় তাহলে তো সব কিছুই স্বাভাবিক ভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। পরের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। অথচ আগের দিন নাচ গানের উৎসব মুখর কনসার্ট করবো। সেটাও কি শোাভন? তাও আবার যে দেশ ৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর এদেশের বুদ্ধিজীবি নিধনের মূল পরিকল্পনা সাজিয়েছিল সেই দেশের শিল্পী গাইবে আনন্দের গান। এটা কি হয়? বললেই কি সব কিছু ভুলে যাওয়া যায়? ভুলতেও তো সময় লাগে।স্বস্থির কথা, আজ ১৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানী শিল্পী আতিফ আসলামের কনসার্ট হচ্ছে না। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরকার এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। সরকারকে এজন্য সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি যারা এই কনসার্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাদের উদ্দেশে ছোট্ট একটা প্রশ্ন রাখতে চাই ডিসেম্বরে পাকিস্তানের শিল্পীকে নিয়ে কনসার্ট কেন? শুধু পাকিস্তানের শিল্পী নয়, ভারতের শিল্পীদের ডেকে এনেও নানামুখি অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন এই প্রবণতা? আমাদের দেশে কি শিল্পীর অভাব পড়েছে?

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...