Ad space

পাঠক সংকটে বই পড়া

প্রকাশ:
15
Image

বই মানুষের জীবনে এমন এক আলো, যা না থাকলে পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। মানুষের জ্ঞান, বোধ, অনুভূতি সবকিছুকে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ করে বই। বই আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায় । বই পড়লে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, স্মৃতিশক্তি উন্নত হয় এবং মানসিক চাপ কমে। বই পড়ার ফলে আমাদের শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি পায়, চিন্তার দক্ষতা বাড়ে এবং লেখার দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া, বই পড়া মানসিক শান্তি ও আনন্দ দেয় এবং সহানুভূতি ও কল্পনাশক্তি বাড়াতেও সহায্য করে।

যে মানুষ বই পড়া শুরু করে, সে নিজের ভেতরেই খুঁজে আলোকিত এক বড় পৃথিবী । যেখানে প্রশ্ন আছে, উত্তর আছে, আর আছে নতুন পথ দেখার সাহস। জাতির উন্নতি, সমাজের পরিশীলন—সবকিছুর মুলেই কার্জকর ভূমিকা পালন করে পড়ার অভ্যাস। তাই বই শুধু কাগজে ছাপা কিছু শব্দ না বরং এটা মানুষের আত্মার খাদ্য, মনের ওষুধ, আর জীবনের সবচেয়ে নীরব অথচ বিশ্বস্ত সহযাত্রী।রাজধানী ঢাকা শহরে একটা সময় হাত বাড়ালেই বইয়ের দোকান পাওয়া যেত। এখন সেই পরিবেশ নেই। হাতে গোনা কিছু বইয়ের দোকান আছে। কিন্তু ক্রেতা কম। বাতিঘর একটি প্রসিদ্ধ বইয়ের দোকান। বাতিঘরের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন সোহেল বললেন, বর্তমানে সব ধরনের পাঠকই বইয়ের খোঁজে আসে আসে—তরুণ, মধ্যবয়স্ক, এমনকি বৃদ্ধও। তবে তাদের সংখ্যা বেশি না। দিনদিন পাঠক কমে যাচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, দেশের সামগ্রিক অবস্থা সব মিলিয়ে পাঠকের সংখ্যা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে, একইভাবে কাগজের দামও দুই–তিন গুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে বইয়ের দামও দ্রুত বাড়ছে, যা পাঠক কমার একটি কারণ। দ্বিতীয়ত, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলছে।তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব তো আছেই। মোহাম্মদ বেলাল হোসেন সোহেল আরও বলেন, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন মধ্যবয়স্ক ও তরুণ পাঠক মুলতঃ গল্প, উপন্যাস, রোমান্টিক উপন্যাস, থ্রিলার, রহস্যধর্মী বই পড়তে পছন্দ করে। যুবক এবং মধ্যবয়স্করা রাজনৈতিক বই, আত্মোন্নয়নমূলক বই বেশি পড়ে যাতে তারা নিজেদের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারে। এর পরে জীবনীভিত্তিক এবং বিশেষ ব্যক্তিত্বদের জীবনকাহিনীমূলক বইয়ের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়। আর বয়স্করা ইতিহাসভিত্তিক বই পড়তে পছন্দ করেন।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...